বড় কেলেঙ্কারির শঙ্কা

0
275

সাড়ে ৮শ কোটি টাকার ডিজিটাল চুরির রেশ কাটতে না কাটতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ভল্টে জমা রাখা স্বর্ণের গরমিল’ নিয়ে দেশব্যাপি তোলপাড়। ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা ৪০ দিন গোপন রেখে গভর্নর ড. আতিউর রহমান দিল্লী যান। বিদেশী পত্রিকায় খবর প্রচারের পর শুরু হয় হৈ চৈ। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ব্যাংক চুরির নেপথ্যের কারণ এখনও জানতে পারেনি জাতি। দীর্ঘদিনেও আলোর মুখ দেখেনি ওই সময়ে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট। স্পর্শকাতর ওই ঘটনার কোনো সুরাহা হয়নি। চিহ্নিত হয়েও শাস্তির বাইরে হোতারা। এ ঘটনার পর আরো কয়েকটি ব্যাংকে কেলেঙ্কারীর কারছে ব্যাংকিং অবস্থার ওপর আস্থা হারাচ্ছে গ্রাহক। এরই মধ্যে নতুন করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে সোনা কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি গ্রাহকদের মধ্যে ভীতি-অবিশ্বাস সৃষ্টির পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোও বিব্রত। পরিস্থিতি সামলাতে দফায় দফায় বৈঠক চলছে কর্মকর্তাদের মধ্যে।
ব্যাংকিং ব্যাবস্থা নিয়ে গবেষণা করেন এমন বিশেষজ্ঞরা বলছেন-আগের ঘটনাগুলোর ‘সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়ায়’ নতুন করে ঘটছে এ ধরনের ঘটনা। তাদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকে স্বর্ণ গচ্ছিত রাখার বিষয়ে খাতা-কলমে এত সব আটঘাট বাঁধা থাকার পরও কেন এর মান ও পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তা খুবই উদ্বেগজনক। অভিযোগ সত্য হলে এটি হবে বড় ধরনের বিপর্যয়। সে ক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে রক্ষকই ভক্ষক। আর তাদের শেকড় খুব গভীরে। যা এখন জনস্বার্থে বের করে আনতে হবে। না হলে জনমনে সংশয় ও প্রশ্ন আরও বাড়তে থাকবে।
বিশ্লেষকরা জানান, রিজার্ভ চুরি থেকে ভল্টে রাখা সোনায় গরমিল। খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট ও ডলারের অস্থিরতায় ব্যাংক খাত অস্থির। পাশাপাশি ডেসটিনি, বিসমিল্লাহ, হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংকসহ নানা কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষ আস্থার সঙ্কটে। এখনই লাগাম টানতে না পারলে চির ধরা এই আস্থা ফিরিয়ে আনা আরও দুরূহ হয়ে পড়বে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে আরও বড় ধরণের কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এসব অনিয়মের মূল কারণ হলো- আগের দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া। বিচারহীনতার একটা সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। অর্থনীতিবীদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে স্বর্ণ কেলেঙ্কারির বিষয়টি তদন্ত করা উচিত।
এদিকে নতুন করে বাংলাদেশ ব্যাংকে গচ্ছিত স্বর্ণের গরমিলে দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারের উচ্চপর্যায়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকরাও এ ব্যাপারে কথা বলতে শুরু করেছেন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে কথা বলেছেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আদুল মুহিতও দেশে ফিরে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলেছেন। এর আগে গত গত বুধবার অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে থাকা স্বর্ণের মান তৃতীয় কোনো পক্ষ দিয়ে যাচাই করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে এম এ মান্নান বলেছেন, ‘আমি মনে করি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমে ত্রুটি আছে। প্রয়োজনে আমরা তদন্ত করব। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছ থেকে পাওয়া বক্তব্য পৃথকভাবে নোট নিয়েছি। দুটো সংস্থার কারো ভুল থাকলে ধরা হবে। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে এলেও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সামান্য ফাঁক থাকলেও তা থেকে ভবিষ্যতে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে।’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তাব্যবস্থা সময়োপযোগী কি না তা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মান্নান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here