মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বৃদ্ধিতে শেয়ারবাজারে থাকলো সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা

0
247

দেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে সরকার বিদ্যমান মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর মেয়াদ আরো ১০ বছর বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে।বর্তমানে মিউচ্যুায়াল ফান্ডগুলোর বাজার মূল্য ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ বিষয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

ইতিমধ্যেই অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, আইসিবি এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বর্তমানে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়েছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাও। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এবং পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বাজারের নীতি নির্ধারকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সংগঠন পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশন বাজার ভারসাম্য এবং তাদের বিনিয়োগ রক্ষার্থে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়। সংগঠনটির সভাপতি রুহুল আমিন আকন্দ বলেন, আমরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ৩৩ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে বিদ্যমান মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণাকে জোরালো সমর্থন জানাই। মেয়াদ যদি না বাড়তো তাহলে, শুধু আমাদের মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের বিনিয়োগই নয় পুঁজিবাজারের অন্যান্য খাতের বিনিয়োগও ক্ষতিগ্রস্ত হতো।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী লিয়াকত হোসেন জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্তে আমরা আবারো সঠিক বিনিয়োগের সুযোগ পেলাম। বাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম ৫-৬ টাকা হলেও অসুবিধা কি? আমিতো এই ফান্ডগুলো ৫-৬ টাকায় কিনে ১০ টাকার উপর ডিভিডেন্ড পাচ্ছি যার ডিভিডেন্ড ইল্ড প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশ। তাহলে কেন আমি ৫ টাকায় কিনবো না। এজন্য মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিনিয়োগকারী মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ২০১০ সালে ব্যাংক খাতে যে শেয়ারগুলো ১০০ টাকার উপরে কিনেছি তার দাম আট বছর পরে এখনো ২০ টাকায় উঠেনি, কবে উঠবে তাও জানিনা। সেই তুলনায় মিউচ্যুয়াল ফান্ডে এমন কি ক্ষতি হয়েছে! বরং প্রতিবছর ব্যাংক সুদের তুলনায় বেশি ডিভিডেন্ড পাই। তবে এটাও বুঝি যে, মিউচ্যুয়াল ফান্ডে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ করতে হয়। প্রতিদিন বেচাকেনা করে লাভ হয় না।

ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হক বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো হলো পুঁজিবাজারের প্রাণ। বাজারের ক্রান্তিকালে এই মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো এবং আইসিবি সাপোর্ট দিয়ে থাকে। বর্তমান বাজারের প্রেক্ষাপটে সরকার মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর মেয়াদ বৃদ্ধির যে অনুমোদন দিয়েছেন তাতে সার্বিক বাজার চিত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে (বিএসইসি) আন্তরিক অভিনন্দন।

“এই মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো ২০১০-১১ এর ধস পরবর্তী বাজারে ভারসাম্য রক্ষার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে ফান্ডগুলোর মেয়াদ ১০ বছর বৃদ্ধি করায় বাজার আরো স্থিতিশীল হবে” বলে জানিয়েছেন জনতা ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীনা আহসান।

প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিশিষ্ট পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ রেজাউল হক বলেন, বর্তমান বাজারের তারল্য সংকট নিরসনে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এই মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো বাজারের ক্রান্তিকাল সাপোর্ট দিয়ে থাকে। পুঁজিবাজারে বর্তমানে প্রায় ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড রয়েছে যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here