যে কারণে ব্যতিক্রম বাংলাদেশের ইভিএম

0
212

য়েক ধাপে দেড় লাখ সেট ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে এমন ইভিএম ব্যবহার করা হবে যা বেশ ব্যতিক্রম। ভোট দেওয়ার সময় ভোটারের বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের পাশাপাশি দ্রুত ফলাফল সংগ্রহ করার বাড়তি সুবিধাই মূলত এই ইভিএম’কে আগেরগুলো থেকে আলাদা করেছে। চাইলে রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টরাও ডিসপ্লে’র মাধ্যমে ভোটারের সত্যতা যাচাই করতে পারবেন।  তাই এই নতুন মেশিন নির্বাচনকে আরও সুষ্ঠু করবে বলে দাবি নির্বাচন কমিশনের।

কমিশন সূত্র জানায়, নতুন ইভিএমে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা থাকায় একজনের ভোট অন্য কারও পক্ষে দেওয়া একেবারেই অসম্ভব। মেশিনটিতে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে পরীক্ষা করে নেওয়া ও শূন্য ভোটিং প্রিন্টেরও সুবিধা আছে। একই সঙ্গে ভোট গ্রহণ শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রুত ফলাফল প্রিন্ট ও ঘোষণা করা সম্ভব হবে। এতে উন্নতমানের ব্যাটারি সংযোজন করা যাবে, যা মেশিনটিকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সচল রাখবে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে,  তারা যেসব ইভিএম  কিনছে তার তিনটি অংশ রয়েছে— কন্ট্রোল ইউনিট, ব্যালট ইউনিট ও এক্সটার্নাল ডিসপ্লে ইউনিট। এই ইভিএমে ভোটকেন্দ্রে আঙ্গুলের ছাপের সাহায্যে ভোটারের তথ্য যাচাই করা যাবে। সেখানে ভোটারের ছবিসহ তথ্য ডিসপ্লে ইউনিটে দৃশ্যমান হবে। ভোটকেন্দ্রে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টরা তা যাচাই করতে পারবেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যে ধরনের ইভিএম ব্যবহার করা হয়, তাতে এই সুবিধা নেই।
সূত্র  আরও জানায়,বিভিন্ন স্থানে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের পর ভোটারদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েই কমিশন সরকারের কাছে এই ইভিএম কেনার প্রস্তাব দেয়। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) উপস্থাপনের পর মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তা অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এ বছরে শুরু হওয়া প্রকল্পটি তিন ধাপে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাগাদ বাস্তবায়ন হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দক্ষ ও আইটি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কারিগরি কমিটি নতুন ইভিএমের টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন  প্রণয়ন করেছে।

জানা গেছে,এ প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য পর্যায়ক্রমে দেড় লাখ সেট ইভিএম ক্রয় করা হবে। একই সঙ্গে এর সংরক্ষণ ব্যয়ও মেটানো হবে। এজন্য তিন হাজার ১১০ জনকে দেশে এবং ৩০ জনকে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্যও পাঠানো হবে। প্রকল্পের আওতায় যানবাহন সংগ্রহ করে ব্যাপক প্রচারণাও চালানো হবে।

নাম প্রকাশ না করে একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, ত্রুটিমুক্ত,বিশ্বাসযোগ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করতে নির্বাচন কমিশন এই উদ্যোগ নিয়েছে। এতে নির্বাচনি ফলাফলের ওপর মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।’
পরিকল্পনামন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ‘ইভিএমের প্রশিক্ষণ ও এর ব্যবহার শেখাতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। কোনোভাবে এটার যেন অপব্যবহার না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ইভিএমের ব্যবহার যেন গ্রাজুয়ালি করা হয়, সে ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।’ আগামী জাতীয় নির্বাচনে এসব ইভিএম ব্যবহার হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘সেটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here