রাজনৈতিক কারণে আইনশৃঙ্খলার কোনও অবনতি ঘটেনি: সেতুমন্ত্রী

0
206

বরগুনার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে ‍যুবক হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এটি রাজনৈতিক কোনও ঘটনা নয়। রাজনৈতিক কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলার কোনও অবনতি ঘটেনি।’

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলাপকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রীর উদ্দেশে সাংবাদিকরা প্রশ্ন রেখেছিলেন, বরগুনার ঘটনায় কি বলা যায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে? এর জবাবে মন্ত্রী উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনায় কি বলা যায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে?’ তিনি বলেন, ‘বরগুনা বলেন কিশোরগঞ্জ বলেন, কোনও ঘটনাই রাজনৈতিক নয়, রাজনৈতিক কারণে আইনশৃঙ্খলার কোনও অবনতি ঘটেনি। এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা বিশ্বের যেকোনও দেশেই ঘটে। এমন কোনও দেশ পাবেন না যেখানে সামাজিক অস্থিরতা নেই। তবে পুলিশ ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখছে।’

এসময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ‘বিশ্বজিত হত্যা প্রকাশ্যে ঘটেছে, এর বিচার হলে আজকের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতো না।’ মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বজিত হত্যার বিচার হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদেরও বিচার হয়েছে। সরকার এসব বিষয়ে নমনীয় নয়।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বরগুনায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে ‍যুবক হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পুলিশ সোর্সে জানতে পেরেছি ইতোমধ্যে একজন গ্রেফতার হয়েছেন। যতদূর জেনেছি এটি প্রেমঘটিত, ব্যক্তিগত বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদেরও গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন- যেভাবেই হোক হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে। পুলিশ বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, বুধবার (২৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে রিফাত ও তার স্ত্রী মিন্নি বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা রাম দা নিয়ে রিফাতের ওপর চড়াও হয়। এ সময় মিন্নি তাদের বাধা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। কিন্তু, তার বাধা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীরা রিফাতকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। হাতে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে বারবার আত্মরক্ষার চেষ্টা চালান রিফাত। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। সন্ত্রাসীরা তার হাত-পা, বুক, পিঠসহ সারা শরীর কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, মিন্নি এ সময় একবার সন্ত্রাসী নয়নকে, আরেকবার নয়নের সহযোগী দুর্বৃত্ত রিফাত ফরাজীকে আটকানোর চেষ্টা করেন এবং ‘বাঁচাও, বাঁচাও, না না’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু, ততক্ষণে রাম দার কোপে মারাত্মক আহত হন রিফাত। এরপর তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকালে রিফাত শরীফ মারা যান।  সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here