শহীদুল আলম গ্রেফতার, ৫ দিনে যা হলো

0
595

গণমাধ্যম ডেস্কঃ দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেফতারের পর দেশে ও বিদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। তার মুক্তি দাবি করেছেন দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন। শহিদুল আলম কি আইনের ঊর্ধ্বে, এমন প্রশ্ন রাখছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। বর্তমানে তিনি ডিবি হেফাজতে আছেন।

০৫ আগস্ট : শহিদুল আলমকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তার পরিবার। শহীদুলের স্ত্রী রেহনুমা আহমেদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার রাত পৌনে ১১টার দিকে তাকে ধানমÐির বাসা থেকে কোনো অভিযোগ না দেখিয়েই তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন ব্যক্তি। পরে ৬ আগস্ট সোমবার বিকেলে তাকে আইসিটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ঐদিন বেলা ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে আলোকচিত্রী শহীদুলের মুক্তির দাবি জানান তার পরিবার ও সহকর্মীরা।

এরপর তাকে শহিদুল আলম কোর্টে নেয়া হয়। তথ্য প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের জামিন নামঞ্জুর করে তার সাত দিনের রিমান্ড করেন আদালত। সোমবার তাকে আদালতে তুলে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) আরমান আলী।

হাইকোর্টে শহিদুল আলমের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়। হাইকোর্ট জামিন না দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দোয়ার নির্দেশ দেন। পরে তারে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আবার ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন। রিমান্ডে থাকা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে কি না তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

শহিদুল আলমের স্ত্রী রেহনুমা আহম্মেদের অভিযোগ
৬ আগস্ট : তিনটি গাড়িতে করে সাদা পোশাকধারী কিছু লোক শহিদুল আলমকে তুলে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ তার স্ত্রী রেহনুমা আহম্মেদের। তিনি আরো জানান, রোববার রাত ১০টার দিকে তার ধানমন্ডির বাড়ি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। রেহনুমা আহম্মেদ বলেছেন, ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ঢুকেছে, তারপর তারা সিসিটিভি ক্যামেরা টিপ করেছে। এবং তাদেরকে নক করেছে। তারপর তারা উপরে গেছে, সেখান থেকে শহিদুলকে নামিয়ে নিয়েছে। আমরা চিৎকার করে নামলাম। বাড়িওয়ালাও চিৎকার শুনে নিচে নেমে এসেছে। তিনি তখন দেখেন পপুলার লাইফইন্সিওরেন্স নামের একটি গাড়ি।

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
৬ আগস্ট : শহিদুল আলমের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
সোমবার বেলা ১২টায় ধানমন্ডিস্থ আলোকচিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠশালায় আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন শহিদুল আলমের স্ত্রী রাহনুমা আহমেদ।
সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, নারী নেত্রী খুশি কবির ও বামনেতা জোনায়েদ সাকিসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

শহিদুল আলমের রিমান্ড বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
৭ আগস্ট : তথ্য প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের ৭ দিনের রিমান্ড চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করারও আবেদন করা হয়েছে।

কপাল ভালো গুম হয়নি : হাইকোর্ট
০৭ আগস্ট : আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে দ্রæত হাসপাতালে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। শুনানরি এক পর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন বলেন, “কপাল ভালো গুম হয়নি।”
“বুঝলাম তিনি (শহিদুল আলম) সাংঘাতিক রকমের কাজ করে ফেলেছেন! কিন্তু তাকে মারপিট করেছেন কেন? পত্রিকায় দেখালাম তার বক্তব্য দিয়ে সাংবাদিকরা লিখেছে, তাকে চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আপনারা তাকে পেটাবেন?”

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের গ্রেফতার প্রক্রিয়া নিয়ে নাগরিক সমাজের প্রশ্ন, উদ্বেগ ও মুক্তি দাবি
৮ আগস্ট : আলোকচিত্রী সাংবাদিক শহিদুল আলমের গ্রেফতার প্রক্রিয়া, হেনস্থা ও পরবর্তীতে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন অভিযোগ ওঠায় নাগরিক সমাজসহ সাধারণ মানুষ উদ্বেগ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন। নির্যাতনের যে বর্ণনা শহিদুল আলম দিয়েছেন তাতে তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না এ নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন।

শহিদুল আলম আল-জাজিরায় যা বলেছেন
৮ আগস্ট : বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন করেছে। তাদের এক প্রতিবেদনের জন্য বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলমকে মন্তব্য করতে বলা হয়। তিনি কিছু মন্তব্য করেন।
কে এই শহীদুল আলম
৮ আগস্ট : ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম তার এক লেখায় শহিদুল আলমের পরিচিতি তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, শহিদুল আলম বিশ্বের সবচেয়ে শ্রদ্ধেয় চিত্রগ্রাহকদের একজন। বাংলাদেশে এই পেশায় তার মতো বৈশ্বিক মর্যাদা খুব কম লোকই পেয়েছেন। বিশ্বের সব বড় বড় পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে তার ছবি ছাপা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে নানা অ্যাসাইনমেন্টের কাজে তাকে নিয়মিত নিয়োগ দিয়ে থাকে খ্যাতনামা সব প্রকাশনা। লন্ডনের দ্য গার্ডিয়ান তার গ্রেপ্তারের সংবাদে লিখেছে, নিজের চারদশকব্যপী ক্যারিয়ারে শহিদুলের ছবি নিউ ইয়র্ক টাইমস, টাইম ম্যাগাজিন ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকসহ প্রত্যেক খ্যাতনামা পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে ছাপা হয়েছে।

শহিদুল আলম ‘ভর্তিযোগ্য’ নন, ফের ডিবিতে
৮ আগস্ট : রিমান্ডে থাকা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যিালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকরা। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর আবারো গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে বুধবার সকালে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ-তে নেয়া হয় শহিদুল আলমকে।

ড. শহিদুলকে হাসপাতালে পাঠানোর স্থগিতাদেশ চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ
৮ আগস্ট : আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে হাসপাতালে পাঠানোর হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। বুধবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় করা আবেদনটি দুপুরে চেম্বার বিচারপতির আদলতে এ আবেদনের শুনানি হয়েছে।

শহিদুলকে শাস্তি না দেয়ার আবেদন বাংলাদেশের বন্ধু রঘু রাইয়ের
৯ আগস্ট : সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য রাখা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেয়া নিয়ে আটক হতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে উস্কানিমূলক মিথ্যা তথ্য প্রচার করার। তবে ভারতের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী রঘু রাই তার ফেসবুক পোস্টে শহিদুলকে একজন সত্যনিষ্ঠ ও দেশপ্রেমী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফেসবুকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। সেই চিঠিতে রঘু রাই নিজেকে বাংলাদেশের বন্ধুু বলে পরিচয় দিয়েছেন। রঘু রাইকে ২০১২ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন বন্ধু হিসেবে শেখ হাসিনা নিজ হাতে সম্মানিত করার কথা উল্লেখ করে চিঠিতে রঘু রাই লিখেছেন, দৃক ও পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম শেখ সাহেবের একনিষ্ঠ অনুরাগী।

শহিদুলের চিকিৎসা নিয়ে শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি
৯ আগস্ট : শহিদুল আলমকে চিকিৎসা দিতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

শনিবারের মধ্যেই গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা
৯ আগস্ট : নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ডাকা আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। একই দাবিতে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন  একাংশ।শহিদুলের মুক্তির দাবিতে সরব ভারতের সাংবাদিকরা

শহীদুল আলমের মুক্তির দাবিতে সরব ভারতের সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীরা। কলকাতায় সাংবাদিকরা বুধবার নীরব প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন। তাদের হাতের পোস্টারে লেখা ছিল, শহিদুলের মুক্তি চাই। ভারতের সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন দি এডিটরস গিল্ড অব ইন্ডিয়া বিবৃতিতে শহীদুলের পাশে দাঁড়িয়ে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

গার্ডিয়ানের সম্পাদকীয় শহীদুলকে মুক্তি দিন
৯ আগস্ট : শহীদুল আলমকে ছেড়ে দেয়া উচিৎ বাংলাদেশের। প্রখ্যাত এই ফটোগ্রাফার ও অ্যাক্টিভিস্ট যেই কালাকানুনের অধীনে গ্রেপ্তার হয়েছেন, তার টার্গেট হয়েছেন এমন আরও অনেকেই। তাই শহীদুলকে মুক্তি দেয়ার পাশাপাশি এই আইনও পরিবর্তন করা উচিৎ। বৃটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান এক সম্পাদকীয়তে এসব বলেছে।

প্রধানমন্ত্রীকে আইপিআই’র চিঠি, নির্যাতন বন্ধের আহ্বান, শহিদুলের মুক্তি দাবি
সাংবাদিকদের ওপর ওপর হামলা–-নির্যাতন বন্ধে ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইন্সটিটিউট’ (আইপিআই) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি লিখিত চিঠিতে সংস্থাটি শহিদুল আলমকে গ্রেফতার করার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।

শহিদুল আলম রাষ্ট্রদ্রোহিতা করেছে : অ্যাটর্নি জেনারেল
০৯ আগস্ট : নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। চেম্বারজজ আদালতে শহিদুল আলমকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়ার জন্য হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

শহিদুল আমাকে লুকিয়ে রেখে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন : তসলিমা
০৯ আগস্ট : দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বৃহস্পতিবার সকালে তার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, শহিদুল তাকে লুকিয়ে রেখে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন।

শহিদুল আলমের রোজনামচার কিয়দাংশ : আশরাফুল আলম খোকন
শহিদুল আলম আলজাজিরাকে সাক্ষাৎকারে যা বলেছেন তা সাংবাদিকতা পেশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় ষড়যন্ত্র করেছেন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন। বুধবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেছেন।

শহিদুল আলমের মুক্তি দাবি করে ৬৯ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি
৯ আগস্ট : আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে তার মুক্তি দাবি করেছেন ৬৯ জন নাগরিক। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনের কার্যকর তদন্ত করতে হবে।
বিবৃতিদাতারা হলেন, ড. হামিদা হোসেন, বশিরুল হক, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, শাহীন আনাম, ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, এম হাফিজ উদ্দিন খান, মাহফুজ উল্লাহ, ব্যারিস্টার মনজুর হাসান, ড. সিআর আবরার, লুবনা মরিয়ম, ডা. নায়লা জামান খান, রোবায়েত ফেরদৌস, ড. শাহনাজ হুদা, ড. আলী রীয়াজ, ড. আমেনা মোহসীন, ড. আনু মুহাম্মদ, খুশি কবীর, ড. পারভীন হাসান, ড. ফেরদৌস আজিম, ফরিদা আক্তার, ড. ইলোরা হালিম চৌধুরী, শিপা হাফিজা, নূর খান লিটন, আদিলুর রহমান খান, ড. আসিফ নজররুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ড. সুমাইয়া খায়ের, রিনা রায়, ড. স্বপন আদনান, ড. আজফর হুসেইন, এএসএম নাসিরউদ্দিন এলান, অরূপ রাহী, হানা শামস আহমেদ, লিসা গাজী, আশরাফ কায়সার, আনুশেহ আনাদিল, দেলোয়ার হোসেন, ইলিরা দেওয়ান, মাহেন সুলতান, দিনা সিদ্দিকী, তারেক ওমর চৌধুরী, মির্জা তাসলিমা সুলতানা, জাকির হোসেন, জিয়াউর রহমান, নাসরিন সিরাজ এ্যানি, সৈয়দ সুলতান আহমেদ, ড. তাসনিম আজিম, ড. মো. মোজাহেরুল হক, ড. সেতু সবুর, ওয়াসফিয়া নাজরিন, লামিয়া মোর্শেদ, দিনা হোসেন, সিনথিয়া ফরিদ, তাসাফি হোসেন, মাসুদ খান, মুক্তাশ্রী চাকমা, তাসমিয়া আফরিন মৌ, ড. ইলোরা শিহাবুদ্দিন প্রমুখ।

ভুল স্বীকার করে শহিদুল আলম অনুতপ্ত :পুলিশ
১০ আগস্ট : তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় রিমান্ডে থাকা বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলম নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে তার উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচারের জন্য ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়েছেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান সমকালকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শহিদুল আলম তার উস্কানিমূলক বক্তব্যের জন্য অনুতপ্ত হয়েছেন। যে বক্তব্য তিনি প্রচার করেছেন, সেটা তার ভুল ছিল বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন শহিদুল আলম। বর্তমানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে রয়েছেন তিনি।

শহিদুল আলম কি আইনের ঊর্ধ্বে, প্রশ্ন জয়ের
১১ আগস্ট : নিরাপদ সড়কের দাবিতে সামপ্রতিক আন্দোলনে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের ভূমিকা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় দেয়া ওই পোস্টে তিনি বলেছেন, শহিদুল আলমের দেয়া মিথ্যা পোস্ট ও অভিযোগের কারণেই শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং পুলিশের ওপর ও আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালায়।

শহিদুল আলমের মুক্তি চেয়ে নোয়াম চমস্কি অরুন্ধতী রায়ের বিবৃতি
১১ আগস্ট : নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কঠোরভাবে দমন ও প্রখ্যাত ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমকে ‘বেআইনিভাবে গ্রেপ্তারের’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মী নোয়াম চমস্কি, অরুন্ধতী রায়সহ একদল বুদ্ধিজীবী। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, তথ্য উপস্থাপন ও সমালোচনা মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোনো রাষ্ট্র যদি তার নাগরিককে যা ঘটছে তা বলতে না দেয় এবং এজন্য কঠোর অবস্থান নেয়, তাহলে তা মানুষের অধিকারকে লঙ্ঘন করে। তারা সরকারের সমালোচনা করার দায়ে গ্রেপ্তার শহিদুল আলমের মুক্তির দাবি জানান।

শহিদুলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দেশি-বিদেশি ২৪ সংগঠনের বিবৃতি
১১ আগস্ট : শহিদুল আলমের দ্রæত ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে দেশি-বিদেশি ২৪টি মানবাধিকার সংগঠন। শুক্রবার দিবাগত রাতে ব্রিটিশ মানবাধিকার সংস্থা ’আর্টিকেল ১৯’ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে সংগঠনগুলো এ আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে গণমাধ্যমকর্মী, বিশেষত সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দিতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here