শহীদ মিনারে ইনামুল হককে শ্রদ্ধা, অশ্রুসিক্ত আবুল হায়াত

0
44

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সদ্য প্রয়াত অভিনেতা ও শিক্ষক ড. ইনামুল হককে শ্রদ্ধা জানাল সর্বস্তরের জনগণ। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডাক্তার জাফরুল্লাহ, অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি, বৃন্দাবন দাস, মীর সাব্বির, নির্মাতা অরণ্য আনোয়ার এবং ইনামুল হকের দীর্ঘদিনের বন্ধু প্রবীণ অভিনেতা আবুল হায়াত।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের এই আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। বন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে এ সময় সেখানে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন অভিনেতা আবুল হায়াত। বন্ধুর শিওরে কোনোরকমে হাতের ফুলগুলো সঁপে দেন তিনি। সাংবাদিকরা এসে হাজির হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের বন্ধুত্বটা ৫৫ বছরের। আনন্দের এই সংখ্যাটি এখন শুধুই শোকের।’ এরপর আর কিছুই বলতে পারেননি প্রবীণ এই অভিনেতা। বারবার শুধু তাকে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।

ইনামুল হককে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে সেখানে তার দুই মেয়ে হৃদিক হক, প্রৈতি হক এবং দুই জামাতা অভিনেতা অভিনেতা লিটু আনাম এবং সাজু খাদেমও উপস্থিত ছিলেন। তারা সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে ইনামুল হকের মরদেহ রয়েছে বাংলাদেশ প্রক্যেশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। সেখানে আবারও তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জোহরের নামাজ বাদে অভিনেতাকে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

বর্ষীয়ান অভিনেতা ড. ইনামুল হক সোমবার সকালে নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর বেলা তিনটার দিকে রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা যায়, তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনী সদরের মটবী এলাকায় জন্মগ্রহণ করে ড. ইনামুল হক। পড়াশোনা করেছেন ফেনীর পাইলট হাই স্কুলে। এরপর ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে অনার্স ও এমএসসি। এছাড়া তিনি মানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা করেছেন ইনামুল হক। এর মধ্যে তিনি ১৫ বছর রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং দুই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিনের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রবীণ এই অভিনেতার অভিনয়ে হাতেখড়ি নটরডেম কলেজে পড়াকালীন সময়ে। ওই সময় ফাদার গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় তিনি ‘ভাড়াটে চাই’ নামে একটি নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৬৮ সালে বুয়েট ক্যাম্পাসেই ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’-এর যাত্রা শুরু হয়। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি।

‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’-এর হয়ে প্রথম তিনি মঞ্চে অভিনয় করেন। নাটকটি ছিল আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’। এরপর এই দলের হয়ে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’ ও ‘নূরুল দীনের সারা জীবন’সহ আরো বহু নাটকে তিনি অভিনয় করেন। ১৯৯৫ সালের এই দল থেকে বের হয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’।

ছোটপর্দায় বহু দর্শকপ্রিয় নাটকে দেখা গেছে ড. ইনামুল হককে। গুণী এই অভিনেতার পুরো পরিবারই অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার স্ত্রী লাকী ইনাম অভিনেত্রী, মেয়ে হৃদি হক নির্দেশক ও অভিনেত্রী। আরেক মেয়ে পৈত্রি হকের স্বামী সাজু খাদেমও একজন নামকরা অভিনেতা।

সূত্র : ঢাকাটাইমস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here