শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে

0
406

বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর উত্তরাংশে উত্তরার হাউজ বিল্ডিং মোড়, দক্ষিণে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এবং নগরীর কেন্দ্রভাগে ফার্মগেইটে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্মপরা শিক্ষার্থীদের জড়ো হওয়ার খবর এসেছে।

উত্তরা পূর্ব থানার উপ পরিদর্শক মানিক মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছেলেরা ১০টার দিকে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করছে। ফলে যানবাহন চলতে পারছে না। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আছেন, তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন।”

কিন্তু পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরাতে না পারায় বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ হাউজ বিল্ডিং থেকে র‌্যাডিসন হোটেল পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এই বহির্গমন পথের যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এদিকে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ায় ধনিয়া কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও সকাল ১০টার দিকে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে।

মহানগর পুলিশের শ্যামপুর জোনের সহকারী কমিশনার ফয়সল মাহমুদ বলেন, শিক্ষার্থীরা রাস্তা আটকে রাখায় ঢাকায় ঢোকার বা বের হওয়ার পথ বন্ধ রয়েছে।

তেজগাঁও কলেজ, সরকারি বিজ্ঞান কলেজসহ ফার্মগেইট এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আগের দিনের মতই সকাল ১০টার পর রাস্তায় নেমে আসে।

শুরুতে তারা রাস্তা না আটকে গাড়ি থামিয়ে থামিয়ে লাইসেন্স দেখা শুরু করে। ফলে অফিস চলার সময়ে ব্যস্ত ওই দ্রুত যানজট তৈরি হয়ে যায়।

এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বিজয় সরণির মোড় থেকে ফার্মগেইটগামী যানবাহনকে বিজয় সরণি দিয়ে সংসদ ভবনের দিকে পাঠিয়ে দেয়।  ঘণ্টাখানেক এই পরিস্থিতি চলার পর শিক্ষার্থীরা রাস্তা থেকে সরে গেলে যান চলাচল শুরু হয় বলে তেজগাঁও থানার উপ পরিদর্শক মো. মাসুদ জানান।

রোববার জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর গত তিন দিন ধরেই রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে।

পুরো নগরীতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স’ নামের একটি ফেইসবুক গ্রুপ থেকে। তিন বছর আগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ভ্যাট বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় ওই গ্রুপ তৈরি হয়।

ওই গ্রুপে মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষার্থীদের বুধবার সকাল ১০টায় যার যার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ’ করার আহ্বান জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবি

১. বেপোরোয়া চালককে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।

২. নৌপরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

৩. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় স্পিড ব্রেকার দিতে হবে।

৫. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।

৬. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে থামিয়ে তাদের বাসে তুলতে হবে।

৭. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালনা বন্ধ করতে হবে।

৯. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here