শিখ ধর্মালম্বীরা কেন পাগড়ি পরে?

0
1818

গুরু নানকের পর থেকে প্রত্যেক শিখ গুরু পাগড়ি পরা শুরু করেন। শিখদের দশম গুরু গুরু গোবিন্দ সিং পাগড়ি পরাকে রীতি হিসেবে প্রচলিত করেন। এই পাগড়ি শুধু চুলকেই রক্ষা করে না, এটি শিখদের সাম্যবাদের প্রতীক এবং শিখ ধর্মাবলম্বীদের বিশেষ স্বকীয়তা।

১৬৯৯ সাল। পাঞ্জাবের আনন্দপুরে গুরু গোবিন্দ বৈশাখী উৎসবে তার সকল অনুসারীদের ডাকলেন। মূলত এই সমাবেশ থেকেই শিখ ধর্ম একটি রুপ পায়। আজকের শিখ ধর্ম যে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সেটির ভিত্তি দিয়েছিলেন শিখদের দশম গুরু গোবিন্দ সিং।

তিনি ‘খালসা’ প্রবর্তন করেন যার উদ্দেশ্য শিখ জাতিকে একত্রিত করা। একে তিনি ‘আকাল ফৌজ’ বা ঈশ্বরের সেনাদল নাম দেন। পাঁচটি বিশ্বাসের প্রিন্সিপাল দেয়া হয় এই সম্মেলনে যাদের বলা হয় ‘পাঁচ ক’।

  • ১। চুল না কেটে লম্বা করা।
  • ২। কাঙ্গা বা চিরুনি ব্যবহার করা।
  • ৩। আত্মশক্তি ও আত্মসংযমের জন্য কড়া বা লোহার চুড়ি ব্যবহার করা।
  • ৪। আত্মরক্ষার জন্য কৃপাণ বা ছুরি রাখা।
  • ৫। হাঁটু অবধি লম্বা অন্তর্বাস ও মাথায় পাগড়ি পরিধান করা।

এই সম্মেলন থেকে পাগড়ি পরার ব্যাপারটি সর্বস্তরের শিখদের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

প্রথম দিকে উচ্চ বংশীয় এবং উঁচু পদমর্যাদার শিখরাই কেবল পাগড়ি পরতেন। যারা পাগড়ি পরতেন তাদের বলা হত সর্দার। গুরু গোবিন্দ সিং সাম্যবাদ প্রচলনের ইচ্ছায় সকল শিখকে সর্দার ঘোষণা করলেন এবং সবার জন্যে পাগড়ি পরার রীতি চালু করলেন। প্রত্যেক শিখের নামের শেষে ‘সিং’ এবং ‘কাউর’ পদবি ব্যবহার করার ব্যাপারটাও ঠিক করে দিলেন। সকল শিখকে সমান মর্যাদা দেয়ার জন্যেই এই ব্যবস্থা।

শিখরা সাধারণত চুল কাটেন না। শুধু তাই নয়, তারা দাঁড়ি কিংবা শরীরের কোনো প্রাকৃতিক চুলের উপর কাঁচি চালান না। এটাকে তারা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার প্রতি বিশ্বাস বলে মনে করেন। তাদের কথা হলো, সৃষ্টিকর্তা যা দিয়েছেন সেটার বিরুদ্ধে যাওয়া উচিত নয়।

যেহেতু চুল কাটেন না তাই মাথায় পাগড়ি তাদের বিশেষ সুবিধা দেয় ধুলাবালি থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে সাদা এবং কালো ও নীল রঙকে তারা প্রাধান্য দেন। এটিও শিখদের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। লাল রঙের পাগড়ি পড়া হয় শিখদের বিয়েতে। বিভিন্ন উৎসবে শিখরা কালারফুল পাগড়ি পরে থাকেন।

শিখ নারীরাও কি পাগড়ি পরেন? শিখ পুরুষরা যে ধরণের ট্রেডমার্ক পাগড়ি পড়েন নারীরা সেরকম না পরলেও লম্বা স্কার্ফ মাথায় পরেন যাকে তারা বলে থাকেন ‘চান্নি’ বা ‘দুপাট্টা’।

শিখদের পাগড়ি আসলে বিশ্বস্থতারও প্রতীক। তারা বিশ্বাস করে শিখদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই, সকলেই সমান। এই বিশ্বাসের মর্যাদা হিসেবে তারা পাগড়িকে বিশেষ গুরুত্ব দেয় এবং সবসময় এটি পরিধান করে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, শিখদের কাছে পাগড়ি খুবই সম্মানের ব্যাপার। আপনার যদি কোনো শিখ ধর্মালম্বী বন্ধু কখনো হয় কিংবা শিখদের কারো সাথে পরিচিত হতে যান প্রথম দেখায় পাগড়ি নিয়ে অস্বস্তিকর কোনো প্রশ্ন করলে তারা এটিকে ইতিবাচক ভাবে অবশ্যই নেবে না। অনেকে শিখদের পাগড়ি স্পর্শ করে দেখতে চান কিংবা পাগড়ির রহস্য নিয়ে অদ্ভুত কিছু বলে ফেলেন যা শিখদের বিব্রত করে। শিখদের কাছে পাগড়ি রক্ষা ধর্ম রক্ষার মতই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

তথ্যসূত্র- দ্য গার্ডিয়ান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here