সব বলব, শুধু বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবেন না-বোমা মিজান

0
321

গণমাধ্যম ডেস্কঃ ভারতে গ্রেফতার দুর্ধর্ষ জঙ্গি জাহিদুল ইসলাম মিজান ওরফে বোমা মিজানকে ফেরত চায় বাংলাদেশের পুলিশ। সরকারি পর্যায়ে এ নিয়ে দুই দেশের যোগাযোগও চলছে। তবে মোস্ট ওয়ান্টেড এই জঙ্গি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএকে বলেছে, তাদের সব ধরনের তথ্য দিতে সে রাজি। জিজ্ঞাসাবাদে সে জঙ্গিদের সব পরিকল্পনার কথা খুলে বলবে। শুধু তাকে যেন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো না হয়। বোমা মিজানের ভাষায়, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হবে। ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়েই সে ভারতে পালিয়েছিল।

গত ৬ আগস্ট ব্যাঙ্গালুরু থেকে ভারতীয় দুই সহযোগীসহ বোমা মিজানকে গ্রেফতার করে সে দেশের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। ভারতীয় গোয়েন্দারা এখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। অন্যদিকে, ভয়ঙ্কর এই জঙ্গিকে ফেরত পেতে এরই মধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, বোমা মিজানকে শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি বলেছেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্দিবিনিময় চুক্তি রয়েছে। আইনিভাবেই আমরা সময়মতো ওই জঙ্গিকে দেশে নিয়ে আসব।’

জানা গেছে, জেএমবির শীর্ষনেতা বোমা মিজানের কাছ থেকে ‘বই বোমা’র খুঁটিনাটি বিষয়ে জানতে মরিয়া দুই দেশের গোয়েন্দারা। বই বোমা দিয়ে যে পদ্ধতিতে বিস্ম্ফোরণ ঘটানোর কৌশল সে আবিস্কার করেছিল, তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে গোয়েন্দাদের।

বোমা বিশেষজ্ঞ মিজান অন্তত ১৫০ জঙ্গিকে বই বোমা ও ফ্লাক্স বোমা তৈরি ও ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। যারা এরই মধ্যে দুই দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, বোমা মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাংলাদেশের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এর মধ্যেই এ বিষয়ে ভারত সরকারের অনুমতি পেতে যোগাযোগ করা হয়েছে।

২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে আসামিবাহী প্রিজনভ্যানে হামলা চালিয়ে বোমা মিজানসহ তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয় জেএমবি জঙ্গিরা। ওই রাতে পুলিশের অভিযানে মিজানের দুই সহযোগীর একজন রাকিবুল হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদ আটক হওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। প্রিজনভ্যান থেকে পালানো বোমা মিজান তার অপর সহযোগী সালাউদ্দিন সালেহীনকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। সেখান থেকেই সে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।

দুই দেশের গোয়েন্দাদের তথ্য, এই জঙ্গিরা ভারতে নাশকতা চালানোর পাশাপাশি বাংলাদেশে ঝিমিয়ে পড়া জেএমবিকেও সক্রিয় করতে শুরু করে। তাদের নির্দেশে বেশ কিছু সহিংস ঘটনাও ঘটে। অবশ্য ভারতে আত্মগোপনে যাওয়ার পর পরই ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড়ের হামলায় নাম আসে বোমা মিজানের। সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে বৌদ্ধ ধর্মের একজন গুরুকে হত্যার পরিকল্পনা এবং বোমা বিস্ম্ফোরণের ঘটনায় বোমা মিজানের নাম খুঁজে পান গোয়েন্দারা। সেই সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালানোর সময়ই ভারতীয় গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়ে সে। ভারতে আত্মগোপনে থেকে জামা’আতুল মুজাহিদীন ইন্ডিয়ার (জেএমআই) আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল দুর্ধর্ষ এই জঙ্গি।

ঢাকার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, ২০০১ সালে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামের উগ্রবাদী সংগঠনের শুরু থেকেই এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে মিজান। প্রথমে সে সংগঠনের গায়েরি এহসার সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। ধীরে ধীরে দক্ষ হয়ে ওঠে বোমা তৈরির কারিগর হিসেবে। এক পর্যায়ে সংগঠনেই তার নাম হয়ে যায় ‘বোমা মিজান’। ২০০৯ সালে ঢাকার মিরপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব। এর পরের পাঁচ বছর কাটে জেলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here