স্কুল শিক্ষার্থীরা শেখালেন আইন কাকে বলে

0
727
আজ পয়লা আগস্ট ২০১৮ একটা স্মরণীয় দিন. কারণ আজকে সারাদিন অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে.
১. শাহবাগে মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এর গাড়ি ছাত্ররা থামিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, উল্টো দিকে পাঠিয়ে দিয়েছে. এমন ঝানু নেতাকে একদম দুই পয়সার দাম দেয়নি পিচ্চিরা. আইন যে সবার জন্য সমান তা এই ছাত্ররা মন্ত্রী মশাইকে কঠোর ভাবে স্মরণ করিয়ে দিল.
২. ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রাস্তায় কিছু ছাত্রকে দেখা গেলো ঝাড়ু দিচ্ছে. কারণ কিছুক্ষন আগে তারা একটা বাস এর কাঁচ ভেঙ্গে ফেলেছে, সেই কাঁচে যেন পথচারীদের অসুবিধা না হয় তাই এই ব্যবস্থা. বাংলাদেশে বাস এই প্রথম ভাঙ্গা হয়নি, তবে বাস ভেঙ্গে সেটা আবার আন্দোলনকারীদেরই সাফ করা এই প্রথম.
৩. বাচ্চা স্কুল শিক্ষার্থীরা রাস্তায় রাস্তায় গাড়ীর চালকদের লাইসেন্স চেক করেছে. লাইসেন্স না পেলেই চাবি জব্দ. এক চালকের লাইসেন্স চাওয়া মাত্র সে লাইসেন্স তো দেখাতেই পারলো না উল্টা বললো এই গাড়ি প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের গাড়ী, যা করার কর. বাচ্চারা এক মিনিট দেরি না করে গাড়িটা সোজা রাস্তা থেকে ফুটপাথে নিয়ে রেখে দিল, চাবি কেড়ে নিয়ে চালককে বাসায় পাঠিয়ে দিলো.
৪. একটা পুলিশের পিকআপ ছাত্রদের হাতে আটক হয়ে বসে রইলো. কারণ পুলিশের গাড়ির চালকেরই লাইসেন্স নেই!
৫. ধানমন্ডির আড়ং এর পাশের রাস্তা. যেখানে রিক্সার দৌরাত্বে জ্যাম অবধারিত. এই রাস্তা এক ঘন্টায় পরিষ্কার করলো এই বাচ্চারা. দুই সারিতে রিক্সা চলছে, কেউ লাইন ভাঙছে না! মাঝখানে জরুরী গাড়ি চলার জন্য ফাঁকাও রাখা আছে. ছবিতে কোনো ট্রাফিক পুলিশ দেখা যাচ্ছেনা, হয়ত গলায় দড়ি দিয়েছে.
৬. মোটর সাইকেল আরোহী এক পুলিশ সদস্যকে সবাই মিলে ধরেছে বিনা লাইসেন্সে চালানোর দায়ে. অন্য এক পুলিশকে দিয়ে জোর করে ফাইন করানো হলো এই লাইসেন্স বিহীন পুলিশ সদস্যকে. এও কি সম্ভব? না ভুল ভাববেন না, আমি বলছিনা এই আন্দোলনে দেশের আমূল পরিবর্তন আসবে. অতটা অর্বাচীনও আমি না. তবে এটা একটা শুরু বটে, এমন অনেক কিছু হচ্ছে যা কখনো দেখেনি বাংলাদেশ. দিবাস্বপ্ন দেখা ছেড়ে দিয়েছি বহু আগে. তবে ওদের দেখে কেন যেন স্বপ্নটা আবার দেখতে মন চাচ্ছে আজ. একদিন এই বাচ্চারাই শুধু মন্ত্রী না, প্রধান মন্ত্রীর গাড়ীই রাস্তায় থামিয়ে জিজ্ঞেস করে বসবে, “দেশকে যে উল্টো পথে চালাচ্ছেন, দেশ চালানোর লাইসেন্স আছে তো?”
“ফেইসবুক থেকে সংগ্রহকৃত”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here